গুগলের প্রতিষ্ঠাতা কে?

গুগলের প্রতিষ্ঠাতা কে? প্রশ্নটির উত্তর অনেকের জানা। ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ইন্টারনেট উদ্যোক্তা ল্যারি পেজ বর্তমানে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন। অন্যদিকে, রুশ বংশোদ্ভূত কম্পিউটার বিজ্ঞানী ব্রিন বর্তমানে অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২১ আগস্ট ছিল সের্গেই ব্রিনের ৪৪তম জন্মদিন। চলুন জেনে আসি তাঁর সম্পর্কে:

জন্ম রাশিয়ায়: ১৯৭৩ সালের ২১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন সের্গেই ব্রিন। তাঁর পুরো নাম সের্গেই মিখাইলোভিচ ব্রিন। তাঁর বাবার মাইকেল ব্রিন ও মা ইউজেনিয়া ব্রিন। মাইকেল ব্রিন ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক। ইউজেনিয়া ব্রিন নাসার গোডার্ড খেয়াযান নিক্ষেপণ কেন্দ্রের গবেষক। ব্রিন ছয় বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

পড়াশোনা: ব্রিন ১৯৯০ সালে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৯৩ সালে তিনি সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে ভর্তি হন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে ভর্তি হন।

স্ট্যানফোর্ডে বন্ধুত্ব: স্ট্যানফোর্ডে পড়াশোনার সময় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ল্যারি পেজের সঙ্গে। দুজন একসঙ্গে ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেন। পরে পড়াশোনা বাদ দিয়ে তাঁরা গুগল তৈরিতে কাজ শুরু করেন।

গ্যারেজ থেকে গুগল: গুগলের যাত্রা শুরু করার ইতিহাস বেশ জনপ্রিয়। কারণ, এর যাত্রা শুরু হয় একটি গ্যারেজ থেকে। সের্গেই ব্রিন ও ল্যারি তাঁদের এক বন্ধুর গ্যারেজে গুগল শুরু করেন। বন্ধু, পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন বিনিয়োগকারী এতে প্রাথমিক বিনিয়োগ করেন।

শীর্ষ ধনীদের তালিকায়: ২০০৪ সালে ফোর্বসের করা বিশ্বের শীর্ষ ৪০০ ধনী ব্যক্তির তালিকায় তরুণ কোটিপতি হিসেবে জায়গা করে নেন সের্গেই ব্রিন। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই ল্যারি পেজের সঙ্গে যৌথভাবে তালিকায় ৪৩ নম্বরে ছিলেন ব্রিন।

বিশ্বের অন্যতম ধনী: ২০১৭ সালে করা ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের ১৩তম শীর্ষ ধনী ব্রিন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৮২ কোটি মার্কিন ডলার।

ব্যক্তিগত জীবন: বায়োটেক বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তা অ্যানি ওজিচিসকিকে ২০০৭ সালে বিয়ে করেন ব্রিন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ২০১৩ সাল থেকে পৃথক থাকার কথা জানান তাঁরা। ২০১৫ সালে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

পারকিনসের ঝুঁকিতে: ব্রিনের মা পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। রোগটি বংশগত না হলেও ব্রিনের মধ্যে তাঁর মায়ের জিন থেকে গেছে। এতে তাঁর পারকিনসন রোগের ২০ থেকে ৮০ শতাংশ ঝুঁকি রয়ে গেছে।

গুগলে প্রকল্প: অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি গুগল গ্লাস নামের একটি প্রকল্প নেন। গুগল গ্লাস ছিল তথ্য বিনিময়ের এক উদ্ভাবনী পদ্ধতি। বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় গাড়িপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তথ্যসূত্র: গ্যাজেটস নাউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *