যোগব্যায়ামের উপকারিতা

যোগব্যায়াম এর উপকারিতা


যোগব্যায়াম অনুশীলন অতি প্রাচীন কাল কাল থেকেই হয়ে আসছে। প্রাচীন মুনিঋষিরা নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলন করতেন দেহ ও মন পরিশুদ্ধ রাখতে। বর্তমান পৃথিবীতে বিজ্ঞান সম্মত প্রচুর গবেষণায় ও এর উপকারিতার বিভিন্ন প্রমান পাওয়া যায়।

যোগব্যায়াম হল সেই সকল ব্যায়াম অনুশীলন করা যা মন ও দেহকে একিভুত করে। এর উপকারিতা অসীম। তবে যোগব্যায়াম এর উপকারিতা জানার আগে যোগব্যায়াম এর তিনটি স্তর – আসন, প্রাণায়াম ও ধ্যান এর কাজ সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা প্রয়োজন। যোগব্যায়াম এর তিনটি স্তর এর প্রাথমিক স্তর হল আসন, দ্বিতীয় স্তর প্রাণায়াম এবং সর্বশেষ স্তর হল ধ্যান। আসন শরীর গঠন করে, প্রাণায়াম শ্বাসপ্রশ্বাস এর মাধ্যমে শরীরে বায়ুপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং ধ্যান শরীর ও মনকে কেন্দ্রীভূত করে। যোগব্যায়াম এর লক্ষ্য হল সুস্থ দেহে সুস্থ মনের আবাস তৈরি করা।

শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি- যোগব্যায়াম অনুশীলনে শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক স্রমের অভ্যাস যাদের নেই, তাদের শরীর থাকে আড়ষ্ট। অনেকেই কোমর ঝুঁকিয়ে হাত দিয়ে নিজের পায়ের আঙ্গুল ছুঁতে পারেন না। যোগব্যায়াম শুরুর প্রথম দিনে হয়তো আপনিও পারবেন না তবে নিয়মিত অনুশীলনের ফলে শরীরের জড়তা খুলবে এবং শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।

রক্ত চলাচল বৃদ্ধি- যোগব্যায়াম এর আরেকটি উপকার শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সচল হয়, যার ফলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। পেশী শক্তি বৃদ্ধি- শক্তিশালী পেশী শরীরকে আরথ্রাইটিস, কোমরের ব্যাথা এবং বেশি বয়সেও শরীর ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। যোগব্যায়াম অনুশীলন এর মাধ্যমে পেশী শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের নমনীয়তাও বজায় থাকে। জিম এ গিয়ে ওয়েট লিফট করলে পেশী শক্তি বাড়ে কিন্তু শরীরের নমনীয়তা নষ্ট হয়।

উচ্চ রক্তচাপ প্রশমন- যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাডপ্রেসার এ ভোগেন তাদের জন্য যোগব্যায়াম কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ‘দি ল্যানচেট’ এ প্রকাশিত উচ্চরক্তচাপ আক্রান্ত ব্যাক্তিদের নিয়ে করা দুটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে- তিন মাস যোগব্যায়াম এর একটি আসন ‘শবাসন’ অনুশীলন করার পর দেখা গেছে উচ্চ রক্তচাপ আক্রান্ত ব্যাক্তির সিস্টলিক চাপ ২৬ পয়েন্ট এবং ডায়াস্টলিক চাপ ১৫ পয়েন্ট কমেছে।

লোহিত রক্ত কনিকা বৃদ্ধি- নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায়। লোহিত রক্ত কনিকা শরীরে অক্সিজেন পরিবহণ করে।

শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি- নিয়মিত ‘প্রানায়াম’ বা শ্বাসপ্রশ্বাস এর ব্যায়াম করলে শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানির দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।

শরীরের ব্যাথা দূর করুন- যোগব্যায়াম অনুশীলন করার সময় শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জয়েন্ট সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করে। কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং কোমর ব্যাথা, গিঁট ব্যাথা প্রভৃতি দূর হয়। মনকে শান্ত করুন- এক সমীক্ষায় জানা যায় প্রায় ২৭% মানুষ বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার জন্য যোগব্যায়াম শুরু করেন। নিয়মিত আসন, প্রাণায়াম ও ধ্যান অভ্যাস করার ফলে মন শান্ত হয় এবং একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।

ব্লাড সুগার কমান- যোগব্যায়াম করলে ব্লাড সুগার ও এল ডি এল (ক্ষতিকর) কলেস্টরেল কমায় এবং এইচ ডি এল (উপকারি) কলেস্টরেল বাড়ায়। ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যাক্তিরা নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে বিভিন্নভাবে তাদের ব্লাড সুগার কমে। করটিসল ও এড্রেনালিন লেভেল কমে, শরীরের ওজন কমে এবং ইনসুলিন গ্রহনের ক্ষেত্রে শরীরের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

বর্তমান যান্ত্রিক পৃথিবীতে আমাদের সময় খুব কম। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের নানা রকম শারীরিক ও মানসিক ধকল পোহাতে হয়। তাই প্রয়োজন সেই ধকল পোহানোর শক্তি যা আমরা অর্জন করতে পারি নিয়মিত যোগব্যায়াম করে। যোগব্যায়াম অনুশীলনের প্রথম দিন থেকেই সফল হওয়া সম্ভব নয়। এমন কি প্রথম কয়েক দিন বা সপ্তাহ শরীরে ব্যাথাও হতে পারে। কিন্তু ধৈর্য ধরে, কষ্ট সহ্য করে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গেলে অবশ্যই সফল হবেন। পাবেন দৈহিক সুস্থতা এবং মানসিক প্রশান্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *